ব্যাংক হিসাব হলো এমন একটি ইউনিক নম্বর যা ব্যাংক তার গ্রাহকদের প্রদান করে থাকে। এটি অর্থ সুরক্ষিত রাখার একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। ব্যাংকের নির্ধারিত ফর্মে প্রয়োজনীয় তথ্য, ছবি, স্বাক্ষর ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রদান করে, একজন ব্যক্তি তার নিজের বা প্রতিষ্ঠানের নামে হিসাব খুলতে পারেন।
কারা ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন?
প্রাপ্তবয়স্ক ও মানসিকভাবে সুস্থ যেকোনো ব্যক্তি
১৮ বছরের কমবয়সী শিক্ষার্থীরা তাদের বাবা-মা বা বৈধ অভিভাবকের মাধ্যমে
রেজিস্টার্ড এনজিও-এর সহায়তায় কর্মজীবী শিশুরাও তাদের বাবা-মা বা বৈধ অভিভাবকদের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবে
ব্যাংক হিসাবের প্রয়োজনীয়তা
কষ্টার্জিত টাকা নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকে
প্রয়োজন অনুসারে জমা ও উত্তোলন করা যায়
জমা টাকার ওপর মুনাফা/লাভ (যদি হয়) পাওয়া যায়
বিভিন্ন ধরনের ইউটিলিটি বিল ও পাওনা সহজেই পরিশোধ করা যায়
এমএসএস-এর কিস্তি/ইন্সুরেন্সের প্রিমিয়াম প্রদান করা যায়
ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সহজে বিনিয়োগ নেওয়া যায়
বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স সহজে গ্রহণ করা যায়
সরকারি ভাতা ও অনুদান ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সহজে পাওয়া যায়
KYC (Know Your Customer) হলো ব্যাংক হিসাব খোলার সময় গ্রাহকের বিশদ তথ্য সংরক্ষণ করা।
e-KYC (Electronic Know Your Customer) হলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ, চোখের প্রতিচ্ছবি) ব্যবহার করে গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ করা। বর্তমানে ঘরে বসে ইন্টারনেট বা ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে e-KYC-এর মাধ্যমে হিসাব খোলা যায়।
ব্যাংক হিসাব খুলতে যা লাগে
ব্যাংকের নির্ধারিত ফর্মে আবেদন
আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
নমিনির ছবি (গ্রাহক কর্তৃক সত্যায়িত) ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
আবেদনকারীর স্বাক্ষর (ব্যাংক কর্মকর্তার সামনে স্বাক্ষর করতে হবে)
আবেদনকারীর TIN সনদের কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
অন্যান্য কাগজপত্র (হিসাবের ধরন অনুযায়ী)
এছাড়াও ব্যাংকের ডিজিটাল অ্যাপ সেলফিন-এর মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব খোলা যায়
ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো টাকা সঞ্চয়ের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের হিসাব খুলে ব্যাংকে টাকা জমা রাখা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
আল-অদী‘য়াহ্ চলতি হিসাব
সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে অথবা ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য চলতি হিসাব খোলা হয়
জমাকারীর নিকট হতে ব্যবহারের অনুমতিসহ টাকা জমা রাখা হয়
এই হিসাবে দিনে একাধিকবার টাকা জমা/উত্তোলন করা যায়
সাধারণত এই হিসাবে জমা টাকার উপর ব্যাংক থেকে কোনো মুনাফা/লাভ দেওয়া হয় না
এই হিসাব পরিচালনা করতে বছরে দুইবার সার্ভিস চার্জ ও সরকারি ফি প্রদান করতে হয়
মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব
ছাত্র-ছাত্রী, গৃহিণী, কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী যে কেউ সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে পারেন
এই হিসাবে টাকা জমা রাখা যায় এবং প্রয়োজনে যেকোনো সময় উত্তোলনও করা যায়
এই হিসাবে মুদারাবা চুক্তি অনুযায়ী মুনাফা বণ্টিত হয়, তবে চূড়ান্ত হিসাবের পূর্বে প্রাক্কলিত মুনাফা প্রদান করা হয়
যদি ব্যবসায় লোকসান হয় তাহলে “সাহিবুল মাল” বা জমাকারীকে লোকসান বহন করতে হয়
ব্যাংক হতে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে এই আমানতের উপর মুনাফা (যদি হয়) প্রদান করা হয়
ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে দেশের যেকোনো অনুমোদিত এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করা যায়
দৈনন্দিন প্রয়োজনে টাকা জমা, উত্তোলন, ফান্ড ট্রান্সফার, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, রেমিট্যান্স গ্রহণসহ ব্যক্তিগত সব ধরনের আর্থিক সেবার জন্য এই হিসাব অত্যন্ত উপযোগী
এই হিসাব পরিচালনা করতে বছরে দুইবার সার্ভিস চার্জ ও সরকারি ফি প্রদান করতে হয়
মুদারাবা মেয়াদি হিসাব
সাধারণত একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টাকা জমা রাখার জন্য মুদারাবা মেয়াদি হিসাব খোলা হয়
মেয়াদ শেষে লভ্যাংশসহ (যদি লাভ হয়) মূল টাকা পাওয়া যায়
এই ধরনের হিসাবে এককালীন বা মাসিক কিস্তিতে মুদারাবা ভিত্তিতে নির্দিষ্ট মেয়াদে টাকা জমা রাখা যায়
এই হিসাবে সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের চেয়ে বেশি হারে মুনাফা/লভ্যাংশ পাওয়া যায়
এই হিসাবে জমার বিপরীতে সহজেই কর্জ সুবিধা নেয়া যায়
বিশেষ প্রয়োজনে গ্রাহক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেও হিসাবটি নগদায়ন করতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে লাভের হার কিছুটা কম হয়
LinkedIn
Youtube
Instagram
Twitter